ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ৮ জোন, থাকবে কিউআর কোড ও আলাদা রং

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ৮ জোন, থাকবে কিউআর কোড ও আলাদা রং ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৩২, ১৯ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলকে নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার আওতায় পুরো ঢাকা শহরকে আটটি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে এসব যান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় এক জোনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে অবাধে চলাচল করতে পারবে না। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে রিকশার প্রবেশ ঠেকাতে প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রঙ নির্ধারণের পাশাপাশি কিউআর কোডসংবলিত ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মাধ্যমে অবৈধ যান শনাক্তের পাশাপাশি রিকশার মালিক ও চালকের তথ্যও সহজে যাচাই করা যাবে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ গ্যারেজে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তৈরি করছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি জোনে রিকশার নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে সোলার চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুসসালাম জানান, দক্ষিণ সিটি এলাকায় জরিপ ও জোন নির্ধারণের কাজ চলছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে চালক ও মালিকের তথ্য যাচাই করা হলে রিকশা চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া সোলার চার্জিং হাব স্থাপনের বিষয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এসব যান নিবন্ধন এবং নামমাত্র ফিতে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হলে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement