দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবেন দীপু মনি

দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবেন দীপু মনি ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৫২, ১৯ আগস্ট ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তৌফিক নেওয়াজ। চলাফেরার জন্য তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে এ দম্পতির এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সল ইসলাম। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৌফিক নেওয়াজ।

বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন দীপু মনি। স্বামীর জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে তার সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

কী এই প্যারোল?

কারাগারে বন্দি কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে স্বল্প সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়াকে সাধারণত প্যারোল বলা হয়। ‘প্যারোল’ শব্দটি ফরাসি শব্দ ‘Parole’ থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রতিশ্রুতি।

জরুরি মানবিক প্রয়োজন দেখা দিলে বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল দেওয়ার প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে।

প্যারোল আদালতের বিচারিক আদেশ নয়। এটি নির্বাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ফলে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া জামিনের সমতুল্য নয়।

২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি বা সাধারণ বন্দির নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে পুলিশ পাহারায় রাখা হয় এবং সাধারণত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও রয়েছে।

প্যারোল ও প্রবেশনের পার্থক্য

প্যারোল ও প্রবেশন এক বিষয় নয়। ‘প্রবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ এবং শিশু আইনের আওতায় আদালত বিচারিক আদেশের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে দিতে পারে। এটি আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে, প্যারোল হলো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এ ছাড়া সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আওতায় রাষ্ট্রপতি ও সরকার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস বা সাময়িকভাবে বিলম্বিত করার ক্ষমতা রাখেন।

 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement