‘ধূর্ত প্রকৃতির’ ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি
Published : ১২:০৩, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম গত বছরের ২০ অক্টোবর হত্যা মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিকল্পিতভাবে যোগসাজশের মাধ্যমে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়। এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাত পলাতক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।
সালমান শাহর প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় তার মৃত্যু হয়। সে সময় বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তার মৃত্যুর পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে।
প্রথমে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে সালমানের মৃত্যুর ঘটনা ও হত্যার অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার বাবা ওই প্রতিবেদন মেনে নেননি। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন জমা পড়ে। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে সালমানের বাবা মারা গেলে তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন এবং ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এরপর মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে গেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট আদালত র্যাবকে তদন্ত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। পরে তদন্তভার যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে।
প্রায় চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, ৫৪ জনের জবানবন্দি এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করেও সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারিবারিক বিরোধ এবং স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নীলা চৌধুরীর কাছ থেকে দূরে থাকার মানসিক কষ্ট থেকে সালমান শাহ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে নীলা চৌধুরী এই প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের দাবি জানান।
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে মামলার আসামিদের অব্যাহতি দেন। এর বিরুদ্ধে সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন আবেদনটি গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘদিন এর শুনানি হয়নি। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদের আগের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি যুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত মামলাটি তদন্ত করে রমনা মডেল থানাকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিনেতা আশরাফুল হক ডন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি।


































