গুমের ঘটনায় জড়িত যত ক্ষমতাবানই হোক, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

গুমের ঘটনায় জড়িত যত ক্ষমতাবানই হোক, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: রাষ্ট্রপতি আজ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:১১, ৩০ আগস্ট ২০২৬

গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকতে দেওয়া হবে না। গুমের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে, তিনি যতই প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান হোন না কেন, বিচারের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

তিনি বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন, শান্তি, স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাও ধ্বংস হয়ে যায়। এটি একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে ভিন্নমত প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক মানুষকে তুলে নিয়ে গুম ও হত্যার শিকার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ এসব গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অতীতের অন্যায়ের জন্য প্রতিশোধ নয়, প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দিতে হবে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

বক্তব্যে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচার একদিন বাংলাদেশে হবে—এমন বিশ্বাস তিনি পোষণ করতেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে বিচার করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারছেন—সেটিও দেশের প্রকৃত উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement