গুমের শিকারদের দ্রুত উদ্ধার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জামায়াত আমিরের
Published : ১১:২২, ৩০ আগস্ট ২০২৬
গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের জন্য একটি বিশেষ ও স্বাধীন আইনি কাঠামো গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের পরিবার গভীর মানসিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে গুমের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, বিরোধী মত দমনে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গুম থাকার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এলেও জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির এখনো সন্ধান মেলেনি।
বিবৃতিতে তিনি গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ জারি করলেও পরবর্তী সরকার সেটিকে আইনে পরিণত করেনি। পরে সংশোধিত খসড়া বিল প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন খসড়া বিলের তদন্তব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেওয়া হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার সরকারের অধীনে রাখার বিষয়টিও উদ্বেগের। কারণ ক্ষমতাসীন সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সরকারের অধীনে তথ্য সংরক্ষণ কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নতুন খসড়া বিলের তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তার মতে, গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি গুমের সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যক্তিদের পাশাপাশি কথিত ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীন তদন্ত ও দ্রুত বিচারের জন্য পৃথক আইনি কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

































