‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ গ্রুপের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published : ১৬:৪২, ৩০ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় দস্যুতার প্রস্তুতিকালে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ গ্রুপের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রাফাত চকদার (২৫), মো. হানিফ হোসেন ওরফে জয় (২৬) এবং মো. চাঁন মিয়া (২০)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) র‍্যাব-২-এর সিপিসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মোহাম্মদপুর থানার মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী দস্যুতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে র‍্যাব-২-এর একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে রাফাত, জয় ও চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-২-এর সিপিসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের প্রধান আনোয়ারসহ অধিকাংশ সক্রিয় সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাবের দাবি, ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সঙ্গে ইউনুস, রাফাত, জয়, রনি, তুষার আহমেদ, পিকআপ রুবেল, বিগার রুবেল, পানি রুবেল, সাঈদ, শাহীন, মাউরা সোহেল, মাউরা রুবেল, দেলোয়ার ও জীবন বাবুসহ আরও কয়েকজন জড়িত।

এদিকে মোহাম্মদপুরে নতুন করে ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’ নামে আরেকটি গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। গ্রুপটির অ্যাডমিন হিসেবে ‘আইডিসি সোহেল’-এর নাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের কয়েকজন সদস্য এই গ্রুপের সঙ্গেও যুক্ত।

র‍্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার তিনজনই ওই দুই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই, দস্যুতা ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

গ্রেপ্তার রাফাত ও জয়কে জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব জানতে পারে, ঈদুল আজহার পর মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ১১ নম্বর এলাকায় মকবুল (২০) নামে এক যুবকের আঙুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই যুবক ময়মনসিংহ এলাকায় চলে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

পুলিশের অপরাধ তথ্য যাচাই করে র‍্যাব জানায়, রাফাত চকদারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া আদাবর থানায় দস্যুতার একটি মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত।

হানিফ হোসেন ওরফে জয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই, দস্যুতার প্রস্তুতি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

অন্যদিকে চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় দ্রুত বিচার আইন, ছিনতাই, মাদক ও দস্যুতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পিসিপিআর যাচাইয়ে পাওয়া গেছে।

র‍্যাব-২ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে এবং উদ্ধার করা আলামতের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement