রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট সফল

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট সফল ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পরীক্ষামূলক পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে বায়েরার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর।

এদিকে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ বিভিন্ন কারিগরি অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে করণীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।

প্রথম ইউনিটের কারিগরি অগ্রগতি সম্পর্কে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, বি-২ ধাপের সব জটিল পরীক্ষা ও ফিজিক্স টেস্ট শতভাগ সফল হয়েছে। বুধবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বায়েরার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। রুশ প্রতিনিধিদলও সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষা। অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি ‘সি স্টেজে’ উন্নীত হয়ে পাওয়ার স্টার্টআপের প্রক্রিয়ায় যাবে।

তিনি জানান, পাওয়ার স্টার্টআপের প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলোর ফলাফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়া প্রতিটি ধাপের সফল সমাপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement