টোকিওতে তারেক রহমানকে ঘিরে বড় কূটনৈতিক বৈঠক!
Published : ১০:৫৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া এ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলে সানায়ে তাকাইচি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ সফরসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দুই নেতা একান্ত বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। বৈঠকের আলোচনার ফলাফল তুলে ধরতে দুই নেতা দুপুরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী কানতেইতে তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। সেখানে দুই নেতা স্বাগত বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রবেশপথের দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানানো হয়।
সফরের প্রথম দিন সোমবার তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও পৃথক আলোচনা করেন তিনি।
তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আসোর ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলার প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চার দিনের এই সফরে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এ ছাড়া সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কেও গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।































