কথা বলার সময় ইনফিনিক্স ফোনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার দাবি

কথা বলার সময় ইনফিনিক্স ফোনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার দাবি আগুন ধরে যাওয়া ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি প্রতিবেদক

Published : ১৬:৫৩, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে মুঠোফোনে কথা বলার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের একটি ফোনে আগুন ধরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফোনটির ব্যবহারকারী মোহাম্মদ নাহিদ হাসান দাবি করেছেন, দ্রুত ফোনটি হাত থেকে ফেলে দেওয়ায় তিনি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

নাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ইনফিনিক্স হট ৬০আই মডেলের ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় ফোনটি হঠাৎ অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠে। বিপদের আশঙ্কায় তিনি দ্রুত সেটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন। এর কিছুক্ষণ পর ফোনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায় বলে তাঁর অভিযোগ।

এ ঘটনায় ফোনটি পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাহিদ জানান, ফোনটি হাত থেকে ফেলতে আরও কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে সেটি তাঁর কানের কাছেই বিস্ফোরিত হতে পারত। এতে তাঁর হাত, কান ও মাথার এক পাশে গুরুতর আঘাত লাগার আশঙ্কা ছিল বলে তিনি মনে করেন।

নাহিদ আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে ফোনটি কিনেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করার সময় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ফোনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ ঘটনায় ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে এনপিবি নিউজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইফতেখার উদ্দিন সানীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগেও ইনফিনিক্স ফোনে আগুনের ঘটনা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে গত বছরের ১২ জানুয়ারি ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো প্লাস মডেলের একটি ফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ব্যক্তি দগ্ধ হন। মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর পকেটে থাকা ফোনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তাঁর শরীরে আগুন ধরে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পরে তাঁকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাসহ এ ধরনের অভিযোগের পর ফোনের ব্যাটারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু গ্রাহক। তাঁদের দাবি, ব্যাটারি বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক।

তবে নারায়ণগঞ্জের ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফোনটির কারিগরি পরীক্ষা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement