নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে প্রবাসীদের ভোট কি বড় ফ্যাক্টর?

নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে প্রবাসীদের ভোট কি বড় ফ্যাক্টর? ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১১:২০, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশে বসবাসকারী প্রায় ৮০ হাজার নাগরিক দেশে ফিরতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়ায় ভোটারদের এই প্রত্যাবর্তন চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। মঙ্গলবারের এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ নাগরিকদের দূর থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দেশটির কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত ব্যক্তিরা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিদেশে বসবাসকারী ইসরায়েলিদের দেশে ফিরে ভোট দিতে সহায়তাকারী একটি সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৮০ হাজার প্রবাসী দেশে আসতে পারেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়ায়েল শোমারের মতে, মোট ভোটারের তুলনায় এই সংখ্যা খুব বেশি না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তাদের ভোট ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারে।

২০২২ সালের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইয়াশার পার্টির নেতা ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট। নেতানিয়াহু তিনটি পৃথক মেয়াদে মোট ১৮ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য দুই নেতাকেই সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সমর্থন নিতে হতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭০ শতাংশের সামান্য বেশি। এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়ে ৮৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জরিপকারীরা ধারণা করছেন। অন্যদিকে, বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কর্মরত ইসরায়েলি কূটনৈতিক সেবাকর্মীদের মধ্যে আগের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। সাধারণত এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি থাকে বলে নির্বাচন কমিটির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী ইসরায়েলিদের দেশে ফিরিয়ে ভোটদানে সহায়তা করতে ‘ফ্লাই অ্যান্ড ভোট’ নামে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘আমেরিকা-ইসরায়েল ডেমোক্রেসি কোয়ালিশন’ এই উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৩ সালে মূলত লিকুদ পার্টির বিচারব্যবস্থা সংস্কারের প্রচেষ্টা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে জোটটি গঠিত হয়েছিল।

তবে ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে নাগরিকদের যাতায়াতের ব্যয় কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের বহন করার অনুমতি নেই। এই বিধিনিষেধের মধ্যেও প্রবাসীদের ভোটদানে সহায়তা করার বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে বের করেছে কোয়ালিশনটি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement