প্রথম আলোতে নাটোর প্রতিনিধি হতে না পারার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বিপ্লব কুমার পালের ফেসবুক পোস্ট

প্রথম আলোতে নাটোর প্রতিনিধি হতে না পারার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বিপ্লব কুমার পালের ফেসবুক পোস্ট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:১৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রথম আলোর নাটোর জেলা প্রতিনিধি হওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট দিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক বিপ্লব কুমার পাল। পোস্টে তিনি প্রথম আলোর প্রতিনিধি নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিজের অভিজ্ঞতা এবং পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমানকে ঘিরে কিছু স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন।

বিপ্লব কুমার পালের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় প্রথম আলোর নাটোর জেলা প্রতিনিধি হওয়ার দৌড়ে তিনিও ছিলেন। তবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা কয়েকজনের মধ্যে দুজন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পান—একজন জেলা প্রতিনিধি এবং অন্যজন গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁর দাবি, ওই দুজনই প্রথম আলোর পত্রিকা এজেন্ট ছিলেন এবং পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জানান, প্রতিনিধি হতে না পারলেও প্রথম আলোতে তাঁর সংবাদ, মন্তব্য প্রতিবেদন ও ফিচার নিয়মিত প্রকাশিত হতো। পরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন জেলা প্রতিনিধির চাকরি চলে গেলে পদটি শূন্য হয়। এরপর আবারও প্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন তিনি।

বিপ্লব কুমার পাল পোস্টে লেখেন, ২০০১ সালে নাটোরে ব্যবসায়ীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়। সে সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রতিনিধি হওয়ার আগ্রহের কথা বিস্তারিত জানান তিনি। মতিউর রহমান তাঁকে ঢাকায় গিয়ে দেখা করতে বলেন।

পরে নাটোরের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর সুপারিশপত্র নিয়ে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে যান বিপ্লব। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সকালে অফিসে পৌঁছে সিভি ও সুপারিশপত্র জমা দেন। তবে সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরদিন আবার অফিসে গেলে তাঁকে জানানো হয়, আগের দিনই নাটোরের জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

লেখায় বিপ্লব কুমার পাল দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর সুপারিশেই অন্য একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর ভাষ্য, তিনি প্রথম আলোর কার্যালয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে তাঁর মাধ্যমে মতিউর রহমানের কাছে সুপারিশ পৌঁছান। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁর আর প্রথম আলোর প্রতিনিধি হওয়া হয়নি।

সম্প্রতি প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের ‘সরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি’ শিরোনামের লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর নিজের পুরোনো অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টানেন বিপ্লব। ওই লেখায় মতিউর রহমান তাঁর কর্মজীবনে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লব কুমার পাল দাবি করেন, সাপ্তাহিক ‘সচিত্র সন্ধানী’তে মতিউর রহমান সাংবাদিক হিসেবে নয়, বরং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি লেখেন, পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে মতিউর রহমানের নাম প্রকাশিত হতো। তাঁর মতে, একজন সম্পাদক হওয়ার জন্য সংবাদ বোঝার পাশাপাশি পত্রিকার বাণিজ্যিক দিক সম্পর্কেও ধারণা থাকা জরুরি।

পোস্টের শেষাংশে বিপ্লব কুমার পাল প্রথম আলোর প্রতিনিধি হতে না পারার অভিজ্ঞতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে পত্রিকাটিতে তাঁর লেখা প্রকাশ এবং সম্মানী দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement