জাপান থেকে ‘বড় আম’ আনলেন প্রধানমন্ত্রী, খোঁচা সাদিকের!
Published : ১৭:২৯, ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সফর থেকে প্রধানমন্ত্রী ‘বড় একটি আম’ নিয়ে এসেছেন বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি জাপানের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ না করার সমালোচনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, ‘বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় গিয়েছিলেন, যাদের আমরা উপদেষ্টা বানিয়েছিলাম, ছাত্র উপদেষ্টা বানিয়েছিলাম, তাদের ব্যর্থতার কারণে আজকে আমাদের গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আজকে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আম তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জাপানে গিয়েছেন। জাপান থেকে বড় একটা ‘আম’ নিয়ে এসেছেন আপনাদের জন্য। জাপানের সঙ্গে কী চুক্তি করেছেন, তা তিনি এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে পরিষ্কার করেননি। আমরা দেখতে পেয়েছি, ভারত এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, বর্তমানে বিএনপি সরকার, তারেক রহমানের সরকার নতুনভাবে ভারতের ঠিকাদারি নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে, অথচ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তার মতে, তৎকালীন উপদেষ্টা ও ছাত্র উপদেষ্টাদের ব্যর্থতার কারণেই এখন এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।
সাদিক কায়েমের অভিযোগ, ওই সময়ে বিএনপি আপস করেছিল। জামায়াত ও ছাত্রশিবির রাষ্ট্র সংস্কারের পর নির্বাচনের কথা বললেও বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার তাড়নায় গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিএনপি গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া জনরায় উপেক্ষা করছে এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
ডাকসু ভিপি বলেন, তাদের একমাত্র দাবি হলো গণভোটের জনরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ তৈরি হবে এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও দুর্নীতি বন্ধ হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সাবেক এই শিবির নেতা সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নে ড. শফিকুর রহমান এক দফার ডাক দিলে তারা রাজপথে নামতে প্রস্তুত কি না। শহীদ ওসমান হাদির মতো জীবন দিয়ে হলেও সেই প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে পিছু না হটার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, এভাবেই বাংলার মাটিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে।
































