পেপ্যাল সেবা নিয়ে সুখবর
Published : ১১:০২, ৩০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা দেশে চালুর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নীতিমালা জারি করে দেশের ব্যাংকগুলোকে বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সেবা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে পেপ্যালসহ অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পথ আরও সহজ হলো।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন নির্দেশনায় ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবা পরিচালনা করতে পারবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) নামে একটি ডিজিটাল ওয়ালেট চালু করবে। প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং পৃথক হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। অনুমোদিত ভ্রমণ ব্যয়, অনলাইনে আন্তর্জাতিক কেনাকাটা, সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত ব্যয়, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং হোটেল বুকিংয়ের অর্থও এই ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ থাকবে।
রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিয়ে আসছে। এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। এতে বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ দেশে আনা আরও সহজ হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে আগত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও অনুমোদিত মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।
তবে এ সেবা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং পরিচালন ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে জমা দিয়ে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত লেনদেনের তথ্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।
































