২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
Published : ১৮:৪৭, ২৮ জুলাই ২০২৬
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
গণমাধ্যমকে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত ওই গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গবেষণার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। এতে ২৬টি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়, আর বাকি ৮টিতে এ ধরনের কণা পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পরীক্ষাধীন টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ছিল এবং চার দেশের পণ্যেই বিভিন্ন মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব নমুনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও কার্যকর নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। তাই এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি।


































