১৭ বছরের আন্দোলনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে: রিজভী
Published : ১০:৪৬, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে টানা ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, টানা ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, দমন-পীড়ন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক শক্তির সঞ্চার হয়েছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। তার ভাষ্য, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ অবসান ঘটে।
তিনি বলেন, শাসন পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ বাক্-স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং নিরাপদে চলাফেরার পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল। এসব অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন চালিয়ে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। রিজভীর মতে, সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করেই ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গণজাগরণের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, যেদিন স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের অবসান হয়। এ কারণে জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময়কাল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
রিজভী জানান, গত বছর বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল। এবারও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি সরকারও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে কর্মসূচিগুলো আরও সুসংগঠিতভাবে পালনের লক্ষ্যে আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
































