যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের এলএনজি আমদানি চুক্তির নীতিগত অনুমোদন
Published : ১০:৪১, ২৯ জুলাই ২০২৬
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতের গ্যাস চাহিদা নিশ্চিত করতে নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসি-এর সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে ১৩ বছর মেয়াদি চুক্তির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট সাতটি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। তবে দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বিদ্যমান সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
নীতিগতভাবে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, গুনভর ইউএসএ এলএলসি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ছয়টি এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। ১৩ বছর মেয়াদি এই সরবরাহ পরিকল্পনাকে সরকার-টু-সরকার কাঠামোর আওতায় চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দেওয়া হবে।
চুক্তি বাস্তবায়নের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আর এলএনজি আমদানি, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যক্রম পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য খাতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


































