বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম, সরবরাহ বাড়ার আশায় স্বস্তি
Published : ১১:৫২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা—দুই কারণে বাজারে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ৩৫ সেন্ট। ফলে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৯০ ডলার ১৭ সেন্টে।
তেলের বাজারে দামের এই পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি। লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আবারও তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। এতে অঞ্চলটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান নিয়েও বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর সেটিই ছিল প্রথমবার, যখন ব্রেন্টের দাম এই সীমার নিচে নামে।
তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও অন্যদিকে জানান, যুদ্ধের অবসান নিয়ে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তার প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে এবং সমঝোতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনাও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ বাড়াচ্ছে।
এদিকে গত ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব যে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ করেছিল, সেটি পুনরায় চালু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাইপলাইনটি সক্রিয় হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির তেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। তুরস্কের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা—এই দুই কারণেই আপাতত আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


































