‘গুলি করি, মরে একটা’ বক্তব্যের সেই ইকবালসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

‘গুলি করি, মরে একটা’ বক্তব্যের সেই ইকবালসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:১২, ১২ আগস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।

একই সঙ্গে পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্তের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।

বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

‘পলায়নের’ অভিযোগে বরখাস্ত

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের অনুপস্থিতিকে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

তবে কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেদিন থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সেদিন থেকেই তাঁদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে

মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বর্তমানে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার এবং ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।

এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলা করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এর আগে একই অভিযোগে গত বছরের ২৩ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সরকার। এক বছরের বেশি সময় পর এবার তাঁকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।

যে বক্তব্যে আলোচনায় এসেছিলেন ইকবাল

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে হতাহত বাড়ছিল। ওই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে পুলিশের গুলিতে হতাহতের বিষয়ে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।’

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁর চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে ওই বক্তব্য বা জুলাইয়ের আন্দোলনের কোনো ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। বরং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা ‘পলায়নের’ অভিযোগেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা

কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ছিলেন। বদলির পর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

বিপ্লব কুমার সরকার ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই তারিখ থেকেই তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর হয়েছে।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তীও একাধিকবার নোটিশ পাওয়ার পর কর্মস্থলে যোগ দেননি। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

রাজন কুমার দাস ছুটি শেষে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দিন থেকেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে মো. গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ডিএমপির দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। ১১ আগস্ট থেকে তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement