৩৪ দিন পর সিলেট শাহজালাল মাজারের দানবাক্স খোলা, চলছে টাকা গণনা

৩৪ দিন পর সিলেট শাহজালাল মাজারের দানবাক্স খোলা, চলছে টাকা গণনা ছবি: সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি

Published : ১৪:০২, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে স্থাপিত নতুন দানবাক্স প্রায় ৩৪ দিন পর আবারও খোলা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এর আগে গত ১১ জুলাই দানবাক্সটি খোলা হয়েছিল। এবারও সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অর্থ গণনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহ বা অবিশ্বাসের সুযোগ কমবে বলে জানান তিনি।

টাকা গণনা কার্যক্রম তদারক করতে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত রয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাজারের মুয়াল্লি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। সাংবাদিকরাও পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর এর আগে দুই দফা টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথমবার স্থাপনের মাত্র চার দিন পর, গত ২২ জুন দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এসব অর্থের মধ্যে বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও ছিল।

দুই দফায় পাওয়া নগদ বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা। এবার প্রায় ৩৪ দিন পর দানবাক্স খোলায় আগের দুই দফার তুলনায় বেশি অর্থ পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে মাজারের আয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা চলছে। কমিটি গঠনের দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও মাজার পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কাঠামো বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

কমিটির অগ্রগতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কমিটি নিয়মিত কাজ করছে এবং বৈঠকও হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে না। দ্রুতই এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে মাজারের দান ও আয়-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জুন মাসে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এর কয়েক দিন পর, ১৮ জুন তাঁর নির্দেশে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। নতুন দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন এটিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৬ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ২৬ জুন থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বিষয়ঃ
শেয়ার করুনঃ
Advertisement