হাসানের আগুনে বোলিংয়ে চাপে অস্ট্রেলিয়া
Published : ১২:০৮, ১৫ আগস্ট ২০২৬
ডারউইন টেস্টে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পাঠিয়ে দারুণ শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে আবারও জ্বলে উঠেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৩৭ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান। মাত্র ৩ বল খেলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড। হাসানের বলে ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে যায় তার। ফলে মাত্র ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
ওয়েদারাল্ডকে এই টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো আউট করলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসেও ২৩ রানে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে হাসানের শিকার হয়েছিলেন অজি ওপেনার। একই টেস্টে টানা দুই ইনিংসে একই ব্যাটারকে আউট করে হাসান এখন অস্ট্রেলিয়ার এই তরুণ ওপেনারের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন।
এরপর আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডও বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন। তবে তাকেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি হাসান। ৩৫ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ১৭ রান করা হেডকে বোল্ড করেন এই পেসার। ওয়েদারাল্ডের মতোই হাসানের বলে ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে যায় হেডের।
হেডের উইকেটটি নিয়ে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হাসানের শিকার দাঁড়াল আটটি। দ্বিতীয় উইকেট হারানোর আগে অবশ্য লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন হেড। ১১তম ওভারের আগের ওভারে দুজনেই একটি করে চার মারেন। হাসানের এক ওভারে হেডও দুটি চার হাঁকান। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই পেসারের সামনে টিকতে পারেননি তিনি।
দুই ওপেনারের বিদায়ে মাত্র ৩৭ রানেই দুই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর স্টিভেন স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। চা-বিরতি পর্যন্ত আর কোনো উইকেট না হারিয়ে আরও ৫১ রান যোগ করে স্বাগতিকরা।
চা-বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৫১ রান। স্মিথ ৮ ও লাবুশেন ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের দেওয়া ২২৮ রানের লিডের বিপরীতে তখনো ১৭৭ রানে পিছিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে। অন্যদিকে ২২৮ রানের বড় লিডের সঙ্গে হাসান মাহমুদের আগ্রাসী বোলিং বাংলাদেশকে ডারউইন টেস্টে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।
চা-বিরতির পর স্মিথ ও লাবুশেনের জুটি কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারানোয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।


































