ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:১৪, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে দেশটির পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাদেশিক গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপে কয়েক ডজন আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি আফটারশকের মাত্রা ছিল ৬.১। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। তবে প্রাথমিক কম্পনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টার্মিনাল ভবনের বড় অংশের কংক্রিট ধসে পড়ছে। এ সময় ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাংওয়ে ভেঙে কয়েকজন সমুদ্রে পড়ে যান বলে জানা গেছে।

সুনামি সতর্কতা জারির পর উপকূলীয় এলাকার অনেক বাসিন্দা মোটরসাইকেলে করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি বাসিন্দাদের সতর্ক করে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে নাগেকেও এলাকার প্রায় ২ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শক্তিশালী কম্পনের পাশাপাশি একের পর এক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় অনেকে এখনো নিজ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement