তিন দিন পর হবিগঞ্জের ১৭১ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক
Published : ১৩:৫৪, ১৫ আগস্ট ২০২৬
টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে জেলার ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পকারখানায় মোটামুটি স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড। এতে কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোতে আবার উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন-দক্ষিণ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, হবিগঞ্জ লাইনে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি ভালো রয়েছে। এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জালালাবাদ গ্যাসের শাহজিবাজার ব্যবস্থাপক খালেদ গনি বলেন, শনিবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জের শিল্পকারখানার লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে।
এর আগে প্রায় ২০ দিন ধরে হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট চলছিল। শুরুতে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হলেও কোনোভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার প্রায় সবগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম থমকে যায়। কোনো কারখানায় শ্রমিকরা কর্মহীন সময় কাটান, আবার কোথাও তাঁদের ছুটিতে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় শ্রমিকদের মধ্যেও ছাঁটাই আতঙ্ক দেখা দেয়।
গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টও বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাতেও সংকট তৈরি হয়।
উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করতে হয়েছে শিল্পমালিকদের। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রতিদিনই বড় অঙ্কের উৎপাদন ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও। পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাব্বি জানান, শনিবার সকাল থেকে তাঁদের কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস পাওয়ায় মেশিন চালু করে উৎপাদন স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সায়হাম স্পিনিং মিলসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিয়াকত হোসাইন বলেন, সকাল থেকেই তাঁদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে। তবে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জের এসব শিল্পকারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেড় লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্প খাতের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আপাতত সেই সংকট কিছুটা কেটেছে। কারখানাগুলোতে উৎপাদন ফের শুরু হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, স্থানীয় বাজার, বাড়িভাড়া, পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, হবিগঞ্জে গ্যাস উৎপাদন হলেও স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলোকে বারবার গ্যাস সংকটে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, হবিগঞ্জে উৎপাদিত গ্যাসের একটি অংশ স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় করে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। উদ্যোক্তাদের মতে, সাময়িকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ না হয়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
নিউজ ক্যাটাগরি


































