কুমিল্লায় চাষ হচ্ছে বিশ্বের দামি মরিচ ‘চারাপিতা’, কেজি ২৮ লাখ টাকা!
Published : ১৩:০১, ১৫ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম দামি মরিচ হিসেবে পরিচিত ‘চারাপিতা’ এখন চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর এই বিশেষ জাতের মরিচের প্রতি কেজির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করছেন স্থানীয় চাষিরা।
তবে শুধু উচ্চমূল্যের কারণেই নয়, চারাপিতা মরিচের রয়েছে আরও বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সাধারণ মরিচের মতো অতিরিক্ত ঝাল না হলেও এর রয়েছে স্বতন্ত্র সুগন্ধ। খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে এই মরিচ ব্যবহার করা হয় বলে জানান চাষিরা। একসময় আরবের রাজপরিবারের খাবারেও এর ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়। মক্কার বিভিন্ন দামি হোটেলেও এই মরিচ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির একটি বাসায় বর্তমানে কয়েকজন সৌখিন চাষি এই দুর্লভ মরিচের চাষ করছেন। তাদের মধ্যে কাজী শারমিন আক্তার ছয়টি বালতিতে লাগানো গাছে চারাপিতা মরিচ ফলিয়েছেন। ছোট পরিসরের এই বাগানে দুর্লভ মরিচ দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন।
কুমিল্লায় চারাপিতা মরিচের চাষ শুরু করেন কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম। ২০২২ সালে নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে তিনি প্রথম এই মরিচের চাষ শুরু করেন। তার দাবি, প্রায় ১০ বছর চেষ্টা করার পর তিনি এই মরিচের বীজ সংগ্রহ ও চাষে সফল হয়েছেন।
জামিল সেলিম জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা বীজ দিয়ে তিনি চাষ শুরু করেন। ৫০টি বীজের মধ্যে মাত্র তিনটি থেকে চারা তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। তার দাবি, একটি গাছ থেকে টানা তিন বছর পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে চারাপিতা মরিচের দাম প্রতি কেজি ২৬ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, বাংলাদেশে এই মরিচের বাজার তৈরি করা গেলে কৃষকরা উচ্চমূল্যের এই ফসল চাষ করে লাভবান হতে পারেন।
অন্যদিকে কাজী শারমিন আক্তার জানান, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তিনি পাকা চারাপিতা মরিচ সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে ছয়টি চারা তৈরি করেন। প্রতিটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ থাকে। বর্তমানে তার গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। প্রতিটি মরিচ তিনি ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন।
শারমিন আক্তার আরও জানান, তার বোনও রানীর দিঘির পাড়ের বাসায় এই মরিচের চাষ করেছেন। দেশে চারাপিতা মরিচের বাজার তৈরি করতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিশ্বের দামি মরিচের চাষ হওয়া আশাব্যঞ্জক। তবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই, বাজার তৈরি এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরির জন্য কৃষি বিভাগের গবেষণা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কুমিল্লায় প্রথম জামিল সেলিম এই মরিচের চাষ শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গবেষণায় চারাপিতাকে একটি দুর্লভ মরিচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশে এর প্রকৃত বাজারমূল্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পেরুর চারাপিতা মরিচের একই জাত বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া দরকার।
গবেষণার মাধ্যমে এই মরিচের সম্ভাবনা যাচাই করে কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষের সুযোগ তৈরি করা গেলে নতুন একটি উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে এটি কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।































