তপশিলের আগেই বরিশাল সিটি মেয়র পদে মনোনয়ন দৌড়

তপশিলের আগেই বরিশাল সিটি মেয়র পদে মনোনয়ন দৌড় ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল প্রতিনিধি

Published : ১১:০৭, ১৬ আগস্ট ২০২৬

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল এখনো ঘোষণা হয়নি। ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। তবে এরই মধ্যে মেয়র পদকে ঘিরে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আগাম প্রস্তুতি ও মনোনয়ন দৌড়। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় জমে উঠছে ভোটের হিসাব-নিকাশ।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে। দলটির কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতা মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। কেউ প্রকাশ্যে নিজের আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন, আবার কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে সম্ভাবনার কথা বলছেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তার অনুসারীরা ইতোমধ্যে তাকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন। তবে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কাউকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চাঁন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির ও মহানগর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে তিনি নিজেও মনোনয়ন চাইবেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারও নগরীতে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য, দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কাজ করছেন। দল ও হাইকমান্ড চাইলে মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত তিনি।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। অভিযোগ রয়েছে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও বরিশাল সিটি নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালের নাম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে জোটের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এবার সিটি নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। গত নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এবার তিনি নির্বাচন করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। ফলে নতুন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে।

দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আইনজীবী শেখ আব্দুল্লাহ নাসিরের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি জানান, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা জানিয়েছেন, এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনিষা চক্রবর্তী জানান, সিটি নির্বাচনে বামপন্থীদের প্রার্থী থাকবে। তবে তপশিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারিত না হওয়ায় এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কয়েকজনের নাম নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তপশিল ঘোষণার পরই প্রার্থিতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৩০টি ওয়ার্ড রয়েছে। তিনটি থানা ও ২২৫টি মহল্লা নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশনে ৩০ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মজিবর রহমান সরোয়ার। এরপর প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন, প্রয়াত আহসান হাবীব কামাল, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং সর্বশেষ আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

তপশিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় বরিশাল নগরীর রাজনীতি এখন সরগরম। শেষ পর্যন্ত কোন দল কাকে প্রার্থী করে এবং ভোটের মাঠে কোন সমীকরণ তৈরি হয়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement