কলেজে দেয়া শিক্ষার্থীদের উপহারের ফ্রিজ বাসায় নিয়ে গেলেন বিভাগীয় প্রধান

কলেজে দেয়া শিক্ষার্থীদের উপহারের ফ্রিজ বাসায় নিয়ে গেলেন বিভাগীয় প্রধান ছবি: সংগৃহীত

জামালপুর প্রতিনিধি

Published : ১৪:৪৬, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপহার দেওয়া একটি ফ্রিজ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় প্রধান মো. আব্বাছ আলীর বিরুদ্ধে। কলেজের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য ৯০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি মিনি ফ্রিজ উপহার দেন। এরপর থেকে ফ্রিজটি বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে রাখা ছিল এবং বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও এটি ব্যবহার করতেন।

তবে প্রায় এক মাস আগে বিভাগীয় প্রধানের বাসার ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি কলেজে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফ্রিজটি নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাসায় নেওয়ার কারণ জানালেন বিভাগীয় প্রধান
অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্বাছ আলী বলেন, বিভাগে ফ্রিজটির তেমন প্রয়োজন হচ্ছিল না। অন্যদিকে তার বাসার ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং ঢাকায় থাকা মেয়ে রান্না করে খাবার পাঠানোয় সেগুলো সংরক্ষণের সুবিধার্থে তিনি কলেজের ফ্রিজটি বাসায় নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ফ্রিজটির প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত লোভ নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কেউ ফেরত চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রিজটি ফিরিয়ে দেবেন।

অধ্যক্ষের বক্তব্য
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর বলেন, ফ্রিজটি বাসায় নেওয়ার বিষয়টি তার সম্পূর্ণ অজানা ছিল। বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠানের ফ্রিজ ব্যক্তিগত বাসায় নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি এবং এ বিষয়ে তাকে আগে কেউ অবহিত করেননি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া উপহারটি প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ হিসেবে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ফ্রিজটি বাসায় নেওয়ার অনুমতি ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement