হবিগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠন

হবিগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠন হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Published : ১২:৩২, ২৫ আগস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ শহরের ‘চাঁদের হাসি হাসপাতাল লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা, হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গোলাম মোস্তফা রফিক দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচারের সম্পাদক ছিলেন।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের অনেকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।

তদন্তে চার সদস্যের কমিটি
ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কমিটি গঠন করা হয়। হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি এবং হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের একজন প্রতিনিধি। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ
রফিকের স্বজনদের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এক দিন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নিতে চাঁদের হাসি হাসপাতালে যান।

স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক ডা. সোলাইমানের কাছে যাওয়ার পর তার সহকারী আল-আমিনের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও চিকিৎসাগত অবহেলা ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা
ঘটনার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে যান।

স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে হুইপ জি কে গউছ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার মৃত্যু ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক মহল ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার জানাজা
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement