‘নিমিষেই সব শেষ, ওরা কাউকেই বাঁচতে দিল না’

‘নিমিষেই সব শেষ, ওরা কাউকেই বাঁচতে দিল না’ হত্যাকাণ্ডের শিকার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি নিউজ, রংপুর

Published : ০৯:১৬, ২৪ আগস্ট ২০২৬

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রোববার রাতে নগরীর দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে পাশাপাশি চারটি চিতায় তাদের দাহ করা হয়।

আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ৮টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারটি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। ধর্মীয় আচার শেষে স্বজনরা চারটি চিতায় মুখাগ্নি করেন। রাত ১১টার দিকে দাহকার্য শেষ হয়।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)।

একই পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য ঘিরে শ্মশানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এর আগে শনিবার রাতে নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, আটক দুজন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement