মাইকিং করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

মাইকিং করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ৩০ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫০, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শনির হাওরের পাড়ে মধ্য তাহিরপুর এবং বীরনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মধ্য তাহিরপুরের একটি মাঠে কয়েকজন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। খেলার সময় বল গিয়ে পাশের সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে যাওয়া একটি ইজিবাইকের সামনের কাচে লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুরের এক ইজিবাইকচালকের সঙ্গে বীরনগরের এক কিশোরের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এর পরদিন তাহিরপুর বাজারে বীরনগরের এক যুবককে মধ্য তাহিরপুরের দুই ব্যক্তি মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

মঙ্গলবার রাতে তাহিরপুর বাজারে দুই গ্রামের আরও দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইক থেকে সকালে সবাইকে সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রাতেই এলাকায় অবস্থান নেয়।

বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

মধ্য তাহিরপুরের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সময়মতো উদ্যোগ নিলে বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে যায় এবং দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। সকালে দুই পক্ষ সেখানে জড়ো হওয়ার পর একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement