টাঙ্গাইলে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য কিশোরকে হত্যা, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২
Published : ১৭:২৭, ২০ অক্টোবর ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজ (১৪) নামে এক কিশোর চালককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে কিশোরের মরদেহের অবশিষ্টাংশ, মাথার খুলি, চুল, হাড়, শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মামলার মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিব (৩৫)। গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহীনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
মো. মাসুদ রানা জানান, সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হাবিব ও শাহীন নামে আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যান।
পরে সবুজের বাবা বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্প সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ছায়াতদন্ত শুরু করে বলে জানান মো. মাসুদ রানা। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা শাহীনের অবস্থান শনাক্ত এবং সবুজের মরদেহ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি। পরে মঙ্গলবার সকালে শাহীনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মরদেহের অবশিষ্টাংশ ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই সবুজকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মো. মাসুদ রানা আরও জানান, গ্রেপ্তার হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার এবং মামলার আলামত উদ্ধারের পর তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।






























