রামিসা হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের দাবি, আদালতে হাজির প্রধান দুই আসামি

রামিসা হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের দাবি, আদালতে হাজির প্রধান দুই আসামি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:২৩, ২ জুন ২০২৬

ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বলেন, তিনি এই মামলায় ন্যায়বিচার এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করেন।

এদিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীকে ডাকা হয়েছে।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে সোমবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীর আদালতে উপস্থিতির জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের কক্ষের সামনে তার জুতা দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পরদিন, ২০ মে, নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement