রামিসা হত্যা মামলায় আলোচনায় ‘ডলার’: তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ
Published : ১৬:৪৪, ২ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার আদালতে দেওয়া বক্তব্যের পর আলোচনায় আসা ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ঘটনায় ডলারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে।
স্থানীয় ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডলারের বাড়ি পল্লবী এলাকাতেই। যে বাসায় রামিসাকে হত্যা করা হয়েছিল, তার কাছাকাছি এলাকায় তিনি বসবাস করেন। পেশায় অটোরিকশাচালক ডলার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি। একই এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। সেই সূত্রেই তাদের পরিচয় গড়ে ওঠে এবং গ্যারেজে ডলারের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, ডলারের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং এলাকায় তাদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। তবে মাদকাসক্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন।
ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, “যদি তদন্তে ডলারের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।”
এর আগে সোমবার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন শুনানির সময় আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ডলার। তিনি আরও বলেন, শিশুটিকে তার কাছে পৌঁছে দিলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, তদন্তের সময় ডলার নামে একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ বা ডিজিটাল প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতিরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে এবং মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


































