শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ
Published : ০৯:৪১, ৩১ আগস্ট ২০২৬
বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট।
গত ২৪ আগস্ট এ মামলায় হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষ হয়। এর আগে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে মামলার বাকি তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। তারা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী এ মামলার নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।
পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক জানান, মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি, হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মেডিকেল রিপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় হাইকোর্টেও বহাল থাকবে। অন্যদিকে হিটু শেখের খালাস চেয়েছেন তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। অভিযোগ রয়েছে, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।
গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়। এরপর ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
এখন হাইকোর্টে হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

































