চীনা কোম্পানির ৩১৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি
Published : ১০:২২, ৩১ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের তারাবতে চীনা মালিকানাধীন ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক নথি, বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য ও হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে এই ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। মাত্র দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি সরকারের কাছে ৩৩ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বিক্রয় তথ্য দেখিয়েছে। পরের অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ বিক্রয় দেখানো হয় ২২ কোটি ৬২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
তবে ভ্যাট গোয়েন্দাদের পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক নথিতে এর চেয়ে অনেক বেশি বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকার ব্যাটারি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিক্রয়ের প্রমাণ মিলেছে ৬৮৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকার।
সব মিলিয়ে দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার ৫৬১ টাকার বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রোববার এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ আগস্ট জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, নথিপত্র ও হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দ করা নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশের পর ব্যাটারি উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিপরীতে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায় বলে এনবিআর জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রকৃত তথ্য গোপন করে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জিউঝু ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ম্যানেজার এনামুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


































