৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:০২, ১২ জুন ২০২৬

মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণ এবং অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী ও বিকেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খাসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট, যার আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে প্রণীত এ বাজেট নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অন্যতম প্রধান নীতিগত লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাজেটে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক ছাড় দিয়ে ভোক্তাদের জন্য ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, লাইসেন্স ও অনুমোদন ব্যবস্থা সহজ করা এবং কর কাঠামোকে আরও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য মোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বাজেটে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যের শেষে অর্থমন্ত্রী দেশের কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, নারী, তরুণ ও প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জনগণের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement