জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বাজেটে’, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বাজেটে’, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৫৮, ১১ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই বাজেটে ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

মাহদী আমিনের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা, নারী ও শিশু কল্যাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কেন্দ্র করে বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনগণের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

শিক্ষা খাতে সমতাভিত্তিক ও সর্বজনীন সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে হৃদরোগ, কিডনি ও চক্ষু চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও কৃষি বীমা সুবিধা সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। তরুণ উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার জন্য বিশেষ সহায়তা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বরং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের অর্থকে আরও উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করের আওতা সম্প্রসারণ এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনে দীর্ঘমেয়াদি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মসূচিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে এবং প্রস্তাবিত বাজেট একটি সমৃদ্ধ, টেকসই ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement