শীতের আগেই পঞ্চগড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা, বাড়ছে পর্যটকের ভিড়

শীতের আগেই পঞ্চগড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা, বাড়ছে পর্যটকের ভিড় ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৪০, ১৬ আগস্ট ২০২৬

শীতের মৌসুম শুরুর আগেই উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড় থেকে দেখা মিলেছে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। আগস্টের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া ও মেঘমুক্ত আকাশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে বরফে ঢাকা এই পর্বতচূড়া দেখা যাচ্ছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকেরা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আসতে শুরু করেছেন। সাধারণত সেপ্টেম্বরের দিকে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলেও এবার এক মাসেরও বেশি সময় আগেই দেখা মিলেছে পর্বতশৃঙ্গটির।

ভোরের আলো কিংবা বিকেলের শেষ সূর্যের রশ্মি বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার গায়ে পড়লে বদলে যায় এর রূপ। আলোর তারতম্যে কখনো সাদা, কখনো গোলাপি আবার কখনো লালচে আভায় দেখা যায় পর্বতশৃঙ্গটি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায় সেই দৃশ্য।

স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, সকালে মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পান। এত পরিষ্কার দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রাবিক আল হাসান জানান, আগস্টের শুরু থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। শীতের আগেই এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ায় এবার পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও উপকৃত হবে বলে মনে করেন তিনি।

পঞ্চগড়ের গণমাধ্যমকর্মী সরকার হায়দার বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলেও এবার আগস্টের শুরু থেকেই দেখা মিলছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা তেঁতুলিয়ায় আসছেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা থেকে সন্ধ্যার পর ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়ি এলাকার আলোকসজ্জা দেখা যায়। দিনে বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা আর সন্ধ্যায় দূরের পাহাড়ের আলোর মায়াবী দৃশ্য পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও পঞ্চগড় পর্যটকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপাল, ভুটান, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় সীমান্তবর্তী এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে।

পর্যটন গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে মানুষের অনুভূতির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত শীতের আগমনে এই পর্বতশৃঙ্গের দেখা মিললেও এবার এত আগেই দৃশ্যমান হওয়া বিস্ময়ের বিষয়। দেশের বাইরে গিয়ে পাহাড়-পর্বত দেখার সুযোগ নেই—এমন মানুষও পরিবার-পরিজন নিয়ে পঞ্চগড়ে এসে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য পরিষ্কার আকাশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেঘমুক্ত আবহাওয়া থাকলে ভোর কিংবা বিকেলে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে দূর দিগন্তে তাকালেই মিলতে পারে বরফে ঢাকা এই অপরূপ পর্বতশৃঙ্গের দেখা।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে একতা, দ্রুতযান ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় যাওয়া যায়। এ ছাড়া গাবতলী থেকে দূরপাল্লার বাসেও পঞ্চগড় যাওয়া যায়। পঞ্চগড় শহর থেকে স্থানীয় বাস, অটোরিকশা বা প্রাইভেটকারে তেঁতুলিয়া, মহানন্দা নদীর পাড়, ডাকবাংলো ও বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়।

মৌসুম শুরুর আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলায় পঞ্চগড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে সামনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে এই আগাম পর্যটন-উন্মাদনা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement