দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ

দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৩০, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি দপ্তরের অতিরিক্ত খরচ, বিভিন্ন ফি, লাইসেন্স নবায়ন ও দাপ্তরিক হয়রানি কমানো গেলে শ্রমিকদের মাসে ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

বুধবার নারায়ণগঞ্জের চাঁদমারী এলাকায় চেম্বার ভবনে শিল্পাঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

সভায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না, ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম।”

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন, কাস্টমসের ফি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন দাবি এবং লাইসেন্স নবায়নসহ নানা দাপ্তরিক কাজে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। কাগজপত্র তৈরি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বছরের পর বছর লাখ লাখ, এমনকি কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। তাঁর মতে, সরকারি সেবায় সমন্বয়, অপ্রয়োজনীয় দাপ্তরিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ করা গেলে ব্যবসার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তখন শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষের জন্য সহজ হবে।

ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে প্রচলিত কিছু নেতিবাচক ধারণার সমালোচনা করে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলের বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়া হয়। প্রগতিশীল ও সুশীল সমাজের অনেকে মনে করেন, ব্যবসায়ীরা মিষ্টি কথা বলে শ্রমিকদের ঠকান এবং তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। কিন্তু কলকারখানা সচল রাখা, উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক খরচ ও হয়রানি সামাল দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের যে সংকট মোকাবিলা করতে হয়, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না।

তিনি আরও বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি সেবা সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং দাপ্তরিক অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের এমন বক্তব্য ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প খাতের উৎপাদন ও বিনিয়োগ সচল রাখতে প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement