জন্মদিনে মহেশ বাবু: দুই দশকের বেশি সময় ধরে ‘প্রিন্স’–এর রাজত্ব

জন্মদিনে মহেশ বাবু: দুই দশকের বেশি সময় ধরে ‘প্রিন্স’–এর রাজত্ব ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১৪:২৩, ৯ আগস্ট ২০২৬

তাঁর সিনেমা মানেই বড় আয়োজন, নায়কোচিত উপস্থিতি আর দর্শকদের বিনোদনের পূর্ণ প্যাকেজ। অ্যাকশন থেকে আবেগ—সবকিছুতেই নিজের আলাদা ছাপ রেখেছেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মহেশ বাবু। আজ ৯ আগস্ট তাঁর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর বর্ণিল জীবন ও দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ার।

চার বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে
মহেশ বাবুর জন্ম ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ভারতের চেন্নাইয়ে। তাঁর বাবা ঘট্টামানেনি কৃষ্ণা ছিলেন তেলেগু সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। প্রায় ৩৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বড় ভাই রমেশ বাবুও ছিলেন অভিনেতা ও পরবর্তী সময়ে প্রযোজক।


অভিনয়জগতের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও মহেশের তারকা হয়ে ওঠার গল্প শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। মাত্র চার বছর বয়সে বাবার প্রযোজনায় নির্মিত ‘নিদ’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন।


দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজত্ব
নায়ক হিসেবে মহেশ বাবুর অভিষেকের পর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। এ সময়ে ৬০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ‘মুরারি’, ‘অথাডু’, ‘পোকিরি’, ‘ডোকাডু’, ‘সীতামা ভাকিতলো সিরিমাল্লে চেট্টু’, ‘মহর্ষি’ ও ‘সারিলেরু নিকেভভারু’সহ বেশ কিছু সিনেমা তাকে তেলেগু চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকাদের কাতারে নিয়ে যায়।


২০০৬ সালের ‘পোকিরি’ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য। সিনেমাটি পরবর্তী সময়ে সালমান খান অভিনীত ‘ওয়ান্টেড’ নামে হিন্দিতে রিমেক হয়।


মহেশ বাবুর ঝুলিতে রয়েছে ৯টি নন্দী অ্যাওয়ার্ড, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার সাউথ অ্যাওয়ার্ড, তিনটি সাউথ ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল মুভি অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক পুরস্কার।


ভক্তদের কাছে ‘প্রিন্স’
সৌম্য চেহারা, সংযত অভিনয় ও শক্তিশালী পর্দা উপস্থিতির কারণে ভক্তদের কাছে মহেশ বাবু পরিচিত ‘প্রিন্স’ নামে। ২০১০ সালে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ‘৫০ মোস্ট ডিজায়ারেবল মেন অব ইন্ডিয়া’ তালিকায় ১২তম অবস্থানে ছিলেন তিনি। পরের বছর সেই তালিকায় হৃতিক রোশন, সালমান খান ও শাহরুখ খানকেও পেছনে ফেলেন মহেশ।


২০১৯ সালে প্রথম তেলেগু অভিনেতা হিসেবে তাঁর মোমের মূর্তি স্থান পায় মাদাম তুসো জাদুঘরে।
তেলেগু পড়তে-লিখতে না পারলেও সাফল্যে বাধা হয়নি


মজার বিষয় হলো, মহেশ বাবুর মাতৃভাষা তেলেগু হলেও তিনি তেলেগু পড়তে বা লিখতে পারেন না। চেন্নাইয়ের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করায় তামিল ও ইংরেজিতে দক্ষতা গড়ে ওঠে তাঁর।
তবে শুনে শুনে তেলেগু সংলাপ মুখস্থ করে ক্যামেরার সামনে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর অভিনীত ১৮টির বেশি সিনেমা হিন্দিতে ডাব হয়েছে। হিন্দি টেলিভিশনে তাঁর সিনেমাগুলোর জনপ্রিয়তাও বেশ উল্লেখযোগ্য।

পর্দার বাইরেও মানবিক মহেশ
অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত রয়েছেন মহেশ বাবু। শিশুস্বাস্থ্য, ক্যানসার চিকিৎসা, গ্রামীণ শিক্ষা ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করেছেন তিনি।
স্ত্রী নম্রতা শিরোদকারের সঙ্গে মিলে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন এই তারকা। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তেলেঙ্গানার দুটি স্কুল ও অন্ধ্র প্রদেশের দুটি হাসপাতালের জন্য অনুদান দেওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।


সিনেমার বাইরে ব্যবসায়ও সফল
২০১৪ সালে ‘জি মহেশ বাবু এন্টারটেইনমেন্ট’ নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ‘শ্রীমন্তুডু’, ‘মেজর’ ও ‘সারিলেরু নিকেভভারু’র মতো সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মহেশ।
এ ছাড়া সিনেমা প্রদর্শন ব্যবসাতেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। এশিয়ান সিনেমাসের সঙ্গে অংশীদারত্বে ২০১৮ সালে হায়দরাবাদে চালু করেন এএমবি সিনেমাস নামে একটি প্রিমিয়াম মাল্টিপ্লেক্স।

বিতর্কও পিছু ছাড়েনি
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কেও নাম এসেছে মহেশ বাবুর। তেলেঙ্গানার একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে মহেশের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে তাঁর সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


রাজামৌলির ‘বারানসি’তে নতুন অবতার
বর্তমানে মহেশ বাবুর সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এসএস রাজামৌলির নতুন সিনেমা ‘বারানসি’। ‘বাহুবলী’খ্যাত এই পরিচালকের সিনেমায় মহেশের সঙ্গে অভিনয় করছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন।
ছবিতে মহেশ বাবু অভিনয় করছেন ‘রুদ্র’ চরিত্রে। গল্পের পরিসরও বিশাল—ভারতের পাশাপাশি অ্যান্টার্কটিকা, আফ্রিকা ও প্রাচীন রোমের মতো বিভিন্ন সময় ও স্থানের প্রেক্ষাপটে কাহিনি এগিয়েছে বলে জানা গেছে।


ছবিটির বড় অংশ আইম্যাক্স ফরম্যাটে ধারণ করা হচ্ছে। জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত নতুন স্থিরচিত্রে মহেশের চরিত্রকে বুদ্ধিদীপ্ত, সংবেদনশীল এবং একই সঙ্গে দুর্ধর্ষ হিসেবে তুলে ধরেছেন রাজামৌলি।
‘বারানসি’কে ঘিরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি হতে যাচ্ছে বড় পরিসরের অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ও মহাকাব্যিক গল্পের এক অনন্য সংমিশ্রণ। ছবিতে পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ এক গ্রহাণু-হুমকির মুখোমুখি হতে দেখা যাবে রুদ্রকে। প্রিয়াঙ্কা রয়েছেন মান্দাকিনী চরিত্রে এবং পৃথ্বীরাজ অভিনয় করছেন প্রযুক্তিবিদ ভিলেন কুম্ভের ভূমিকায়।


শুটিং এখনো চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ‘বারানসি’র।
ক্যাটাগরি: বিনোদন → দক্ষিণী সিনেমা → জন্মদিন বিশেষ

শেয়ার করুনঃ
Advertisement