মোদির আপত্তিকর পোস্টার বিতর্ক: ১৬ মামলায় স্বস্তি পেলেন শ্রীলেখা মিত্র
Published : ১৭:৫৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সংবলিত একটি বিতর্কিত পোস্টার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনি জটিলতায় বড় ধরনের স্বস্তি মিলেছে। ‘ককরোচ আন্দোলন’-এ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে অংশ নেওয়ার সময় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টার বহনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার জেরে তাঁর নামে মোট ১৬টি ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
নিজের সাফাইয়ে অভিনেত্রী দাবি করেন, ঘটনার দিন তাঁর কাছে চশমা না থাকায় পোস্টারে থাকা ছবি ও লেখা তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি এবং না বুঝেই সেটি বহন করেছিলেন। পরবর্তীতে এই ১৬টি মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
আদালতের শুনানি ও আইনজীবীর যুক্তি
হাইকোর্টে শ্রীলেখার পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি আদালতকে জানান, পোস্টারটি রুচিহীন বা আপত্তিকর হতে পারে, তবে এর ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এভাবে একাধিক ফৌজদারি মামলা চালানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অন্যদিকে, শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন পোস্টার কীভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা যায়?’
অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা ও নির্দেশ
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অভিনেত্রীকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করেছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ধরনের কঠোর বা কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ১৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই সুরক্ষাকবচ পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, ‘আদালতের কাছ থেকে আমি এটাই আশা করেছিলাম। আমার আইনজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

































