রংপুরে চার খুন: ১২ ঘণ্টায় ৩০ ফোনালাপ ও শিলিগুড়ি পালানোর চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা

রংপুরে চার খুন: ১২ ঘণ্টায় ৩০ ফোনালাপ ও শিলিগুড়ি পালানোর চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:১৭, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। হত্যাকাণ্ডের আগের মাত্র ১২ ঘণ্টায় এই দুই আসামির মধ্যে ৩০ বার ফোনে যোগাযোগের অদ্ভুত তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আগেই নিজেদের পৈতৃক ভিটেমাটি বিক্রি করে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গত ১৯ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৮০ ঘণ্টার কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ তার দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধের একটি নম্বরে টানা ৩০ বার ফোন করেন। প্রতিটি কলের স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র ১১ থেকে ১৭ সেকেন্ডের মধ্যে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কিছু ফোনকলে একাধিক ব্যক্তির যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে, যা সন্দেহভাজনের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এত ঘন ঘন ফোনালাপের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে দেখছে তদন্ত দল।

শিলিগুড়ি পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা
তদন্তে জানা গেছে, সম্পর্কে মামাতো ও ফুফাতো ভাই সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশেই ছিল সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও কাকা বিজয় দাসের বাড়ি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগেই প্রতিবেশী স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিধান চন্দ্র দাসের কাছে ৩৫ লাখ টাকায় এই বাড়িটি বিক্রির বায়না করেন তারা। দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর সম্পূর্ণ পরিবার নিয়ে ভারতের শিলিগুড়িতে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। জমিটির ক্রেতা বিধান চন্দ্র দাস জানান, তিনি বায়না বাবদ ইতিমধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধও করেছেন।

জেলগেটে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ
চার খুনের চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আদালতের আদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী গত মঙ্গলবার ও বুধবার প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে নতুন প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ, ঘটনার আগে ও পরের গতিবিধি এবং বিভিন্ন আলামতের সত্যতা যাচাই করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement