ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১৪:০৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালনের গানকে শুধু সংগীত নয়, সাধনা ও জীবনদর্শনের অংশ হিসেবে ধারণ করে কয়েক দশক ধরে বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন কিংবদন্তি লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। ‘লালন কন্যা’খ্যাত এই শিল্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রয়াণের এক বছর পরও তার কণ্ঠে গাওয়া লালনের গান শ্রোতাদের মনে সমানভাবে অনুরণিত হচ্ছে।

ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে প্রচারিত হবে তাকে নিয়ে নির্মিত বিশেষ সাময়িকী। সিনিয়র সাংবাদিক আবদুর রহমানের পরিচালনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি নির্মিত হয়েছে। এর আগে সকাল ৭টার সংবাদের পর ‘গান দিয়ে শুরু’ অনুষ্ঠানেও স্মরণ করা হবে প্রয়াত এই শিল্পীকে।

১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ফরিদা পারভীনের সংগীতজীবনের শুরু। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালনসংগীতে তালিম নেন। এরপর লালনের গানই হয়ে ওঠে তার সংগীতসাধনার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

নিজস্ব কণ্ঠ, গায়কী ও পরিবেশনার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ফরিদা পারভীন লালনসংগীতকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর শ্রোতৃমহলে পৌঁছে দেন। তার পরিবেশনায় লালনের দর্শন ও ভাবধারা নতুন মাত্রা পায় এবং এই সংগীতধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আরও বিস্তৃত পরিসরে।

শুধু নিজে গান গাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই শিল্পী। নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালনসংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘অচিন পাখি স্কুল’। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে অর্জন করেন একুশে পদক। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভোগার পর ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন ফরিদা পারভীন। তার চলে যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও বাংলা সংগীত ও লালনসংগীতে তার অবদান এখনো অমলিন।

লালনের গানকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার যে অনন্য পথ তিনি তৈরি করে গেছেন, তা অনুসরণ করছেন নতুন প্রজন্মের অনেক শিল্পী। তার কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান এবং সংগীতসাধনার আদর্শের মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের কাছে বারবার ফিরে আসছেন ‘লালন কন্যা’ ফরিদা পারভীন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement