কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী
Published : ২০:০৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) কিংবদন্তি ভারতীয় শিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো। ২০২৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর পুরো আসামসহ ভারতের সর্বত্র গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর গান, স্মৃতি ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমেই ভক্তরা তাঁকে আজও স্মরণ করছেন, পাশাপাশি চলছে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচারকাজ।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে সাঁতার কাটতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পানিতে অচেতন হয়ে পড়েন জুবিন গার্গ। দ্রুত উদ্ধার করে সিপিআর দেওয়া হলেও সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। পরদিন নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে যায় আসাম। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির কাছে সোনাপুরের কামারকুচিতে তাঁর শেষকৃত্যে আনুমানিক ১৫ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটেছিল, যা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সিঙ্গাপুরের তদন্তে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু বলা হলেও আসামে বিষয়টি অন্য মোড় নেয়। তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামে ৬০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হওয়ার পর রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে পুলিশ সিঙ্গাপুরের অনুষ্ঠানটির আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, সংগীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্ত ও শেখর জ্যোতি গোস্বামী, জুবিনের চাচাতো ভাই সন্দীপন গার্গ এবং দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় এবং এসআইটি প্রায় আড়াই হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে, যার নথিপত্রের মোট পরিমাণ ১২ হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে যায়।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে জুবিন গার্গ অগণিত স্মরণীয় গান উপহার দিয়েছেন। ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ইয়া আলি’ কিংবা ‘কৃষ ৩’ সিনেমার ‘দিল তু বাতা’র মতো হিন্দি গান তাঁকে ভারতব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। হিন্দি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমা এবং বাংলাদেশের ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সিনেমার জনপ্রিয় ‘ঢাকার পোলা’ গানটিতেও কণ্ঠ দিয়ে তিনি দুই বাংলার শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন।






























