নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস ব্যবহারের আহ্বান পানিসম্পদমন্ত্রীর

নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস ব্যবহারের আহ্বান পানিসম্পদমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:০১, ১৬ আগস্ট ২০২৬

নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশে ‘বিন্না ঘাস’ ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নদীর পাড় ও বাঁধের মাটি রক্ষায় পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পব্যয়ী এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে ‘বিন্না ঘাস পলিসি ফর বাংলাদেশ’ বিষয়ক এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস ঠেকাতে পার্শ্বঢালে বিন্না ঘাস লাগানো হয়। এই ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে শক্তভাবে মাটিকে আঁকড়ে রাখে। ফলে বৃষ্টির পানি, ঢেউ ও স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, নদীর তীর, বাঁধের ঢাল, হাওরাঞ্চল এবং ক্ষয়প্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিন্না ঘাস রোপণ করা হলে মাটির স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে নদী ও খালের তীর, বাঁধ এবং পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকায় এর ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নদী, খাল, বাঁধ ও জলাধার সংরক্ষণে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে নদীর পাড় ও বাঁধের মাটি রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে।

সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু কংক্রিটনির্ভর অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব সমাধানের দিকে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিন্না ঘাস এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় মোকাবিলায় এটি একটি টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সভায় বিন্না ঘাসের উপকারিতা ও সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম।

এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement