গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে ইসরাইলে যাচ্ছেন কুশনার
Published : ১৫:৫১, ১৫ আগস্ট ২০২৬
গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশনারের সঙ্গে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভও ইসরাইল সফর করবেন। সফরকালে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরেও যাবেন।
গাজা-সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’-কে। সম্প্রতি ম্লাদেনভ ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ওই পরিকল্পনায় হামাস গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হয়েছিল বলে জানানো হয়।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশেষ করে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা জানান, কুশনার ও ম্লাদেনভ ট্রাম্পের সামগ্রিক শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ করতে চান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে ঐকমত্য রয়েছে—হামাসকে নিরস্ত্র করা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগগুলো শোনা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। কীভাবে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়, সে পথ খুঁজে বের করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধ
জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাস গাজা পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে সম্মতি দেয়। বোর্ড অব পিসের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর আওতায় গাজার বড় একটি অংশ থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তবে পরে ম্লাদেনভ তাঁর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে বলেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে না।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও আগেই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। হামাস সত্যিই অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, হামাসের অস্ত্র এমনভাবে ধ্বংস করতে হবে, যাতে তা যাচাই করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে হামাস দাবি করেছে, তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলছে। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম এএফপিকে বলেন, নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারকে রোডম্যাপ মেনে চলতে বাধ্য করতে মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের অপেক্ষায় রয়েছে হামাস।
এদিকে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এতে গাজায় ইসরাইলি হামলা কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন এই সফরের মাধ্যমে গাজা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতপার্থক্য কতটা কমানো যায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
































