বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টায় জাতিসংঘের উদ্বেগ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০০:৫৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশকে নিজেদের কার্যক্রমে ব্যবহারের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)—এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি পর্যবেক্ষণকারী দল। সংগঠনটি বাংলাদেশে ছোট পরিসরে সেল বা সাংগঠনিক ইউনিট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের Analytical Support and Sanctions Monitoring Team গত ১০ আগস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার সামগ্রিক অবস্থান ও সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে সংগঠনটির ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা একিউআইএস তার আঞ্চলিক কাঠামো আরও সংগঠিত করার চেষ্টা করছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের মূল্যায়ন অনুযায়ী, একিউআইএস বড় সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেল গঠন, রসদ সংগ্রহ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংগঠনটির সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে এ কারণে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএস দেশটিকে নিজেদের কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারের চেষ্টা করছে এবং এখানে ছোট পরিসরে সাংগঠনিক ইউনিট গড়ে তোলার উদ্যোগের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিস্তার বা সক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে একিউআইএসের আঞ্চলিক কার্যক্রমের প্রসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।

একিউআইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রতিবেদনে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনাও প্রতিবেদনের নিরাপত্তা বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে এসেছে।

একিউআইএসের নেতৃত্বের অবস্থান নিয়েও প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির কিছু জ্যেষ্ঠ সদস্য আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছেন বলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ তালেবান সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট হামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একিউআইএসকে সরাসরি যুক্ত করার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বরং সম্ভাব্য সাংগঠনিক বিস্তার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণকারী দলের মতে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী নতুন এলাকায় নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। এ কারণে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনটির তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তব মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

এমডিএইচ

শেয়ার করুনঃ
Advertisement