সুদানে আরএসএফের হামলায় নিহত ১৪

সুদানে আরএসএফের হামলায় নিহত ১৪ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৩৮, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সুদানের সংঘাতপ্রবণ কর্ডোফান অঞ্চলের উম্ম আরদা শহরে হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার উম্ম আরদা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। শহরটি এল ওবেইদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, হামলায় ১৪ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকার বহু বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে শুক্রবার আরএসএফ দাবি করে, তারা উম্ম আরদা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বাহিনীটি ঘটনাটিকে তাদের সামরিক অভিযানে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে সুদানের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, উম্ম আরদা ও জাবাল আল-হাশাবা এলাকায় আরএসএফের দুটি হামলা প্রতিহত করেছে সেনাবাহিনী। এসব সংঘর্ষে আরএসএফের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকাটিতে প্রবেশ কঠিন এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত থাকায় হামলা ও সংঘর্ষের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।

যুদ্ধে উভয় পক্ষের নৃশংসতার তথ্য নথিবদ্ধ করা ইমার্জেন্সি লইয়ার্স সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অবরোধ ও মৌলিক সেবার ঘাটতিতে সংকটে থাকা এলাকাগুলোতে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, উত্তর কর্ডোফানে চলমান সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিশু এল ওবেইদে আশ্রয় নিয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের জন্য পরিচালিত দুটি শিবিরে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেড়েছে এবং তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

পানির সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সংস্থাটির মতে, কিছু পরিবারকে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় পানি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে।

চতুর্থ বছরে গড়ানো সুদানের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমের দারফুর অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আরএসএফ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement