ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান পেলেন ‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার

ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান পেলেন ‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৭, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান ২০২৬ সালের র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। এ পুরস্কারকে এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা এবং ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ এবং মিয়ানমারের বো চি।

ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিজয়ীদের এমন উদ্যোগ ও কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেগুলো র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের চিরস্থায়ী মূল্যবোধকে ধারণ করে। এসব মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা।

রুনা খান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের দুর্গম ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা ও সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এবারের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৬৮তম র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের ইতিহাস
র‍্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। একই বছর তাঁর নামে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

প্রতিবছর ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন ৩১ আগস্ট ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার তাঁর ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

২০০৮ সাল পর্যন্ত ছয়টি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার দেওয়া হতো। এগুলো ছিল সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব।

তবে ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া পুরস্কারটি আর নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। এরপর থেকে এশিয়ার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি ও উদ্যোগকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement