ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, প্রিলুকিতে প্রাণ গেল ৫ শিশুর
Published : ১০:৫৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও রয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশের প্রিলুকি জেলায়। সেখানে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির জানালার কাচ উড়ে যায় এবং এর একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র এক বছর এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, শুধু প্রিলুকির ওই আবাসিক ভবনেই ২০ জন নিহত হয়েছেন।
হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত সাতজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করেছেন।
জেলেনস্কির ভাষ্য, ইউক্রেনের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের ধারাবাহিক ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ।
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রিলুকির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন বলেন, তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর ঘরের জানালার কাচ ভেঙে যায়। তিনি ও তার স্বামী নিজেদের শরীর দিয়ে সন্তানকে আড়াল করেন। হামলার পর শিশুটি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপত্তার জন্য বাথরুমে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগের দিনই জেলেনস্কি রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
এদিকে শীত ঘনিয়ে আসায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। সতর্কতামূলক সাইরেনের কারণে অনেক বাসিন্দা রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো বলেন, হামলার আশঙ্কায় তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। তার ভাষ্য, কিয়েভজুড়ে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এবং কর্মস্থলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কি এই হামলাকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। ইউক্রেনের আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই প্রশ্ন তুলেছেন, এমন হামলার মাধ্যমে রাশিয়া কী সামরিক লক্ষ্য অর্জন করছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
































