যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মপ্রশিক্ষণে ৭০ হাজার ডলার ফি

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মপ্রশিক্ষণে ৭০ হাজার ডলার ফি ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১২:৫৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ‘ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ’ (OPT) কর্মসূচির জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে।

বুধবার প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ফি কাঠামোর প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশি ভিসাধারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এটি আনা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এফ-১ ভিসাধারী অ-অভিবাসী শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো কর্ম-প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

DHS-এর ভাষ্য, নতুন ফি ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো প্রতারণা প্রতিরোধ, অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা করা।

বর্তমানে OPT কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০০ ডলার ফি দিতে হয়। এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষ চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ডিগ্রি অর্জনের পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ সুযোগ থাকে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—অর্থাৎ STEM বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা OPT-এর আওতায় তুলনামূলক দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।

DHS জানিয়েছে, নিয়োগকর্তা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এফ-১ অ-অভিবাসী শিক্ষার্থী হিসেবে অনুমোদিত অবস্থানের নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তা নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত ফি ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য OPT কর্মসূচি অনেক সময় পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করে। কয়েক দশক ধরে এইচ-১বি কর্মসূচি বিশেষ করে প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। ভারত ও চীনের শিক্ষার্থীরা এ ব্যবস্থার বড় সুবিধাভোগী। দেশটির প্রযুক্তি খাতও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।

তবে প্রস্তাবিত এই ফি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার সুযোগ সহজ করার কথা বলেছিলেন। এমনকি স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের গ্রিন কার্ড দেওয়ার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।

প্রস্তাবিত নিয়মটি চূড়ান্ত করার আগে ৩০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর নিয়ম চূড়ান্ত হলে তা কার্যকর করার আগে আরও ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে বলে DHS জানিয়েছে।

ট্যালেন্ট মোবিলিটি ফান্ডের পরিচালক ডগ র‍্যান্ড প্রস্তাবটির সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে বলেছেন, এই নিয়ম আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তার দাবি, অতীতে ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি ও অন্যান্য কঠোর বিধিনিষেধও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement