ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরল ক্রিস্টা পাইকের

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরল ক্রিস্টা পাইকের ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৩:০৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক দিন পর জ্ঞান ফিরেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। ৫০ বছর বয়সী পাইক জ্ঞান ফেরার পর ‘ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত’ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী র‌্যান্ডি স্পিভি।

৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মারা যাননি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের মতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেঁচে যাওয়ার এমন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।

আইনজীবী স্পিভি জানান, কয়েক দিন ধরে তারা আশঙ্কা করছিলেন পাইক হয়তো মস্তিষ্কে মৃত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে মঙ্গলবার হঠাৎ তিনি কথা বলতে শুরু করেন। জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন ছিল—‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনারা কে?’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার বিষয়ে তার স্মৃতিও খুব সীমিত বলে জানান আইনজীবী।

স্পিভির ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইক কর্মকর্তাদের নিজের হাতে শিরা খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছিলেন এবং ইনজেকশন দেওয়ার সময় শান্ত ছিলেন। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর গলায় টিউব ও চারপাশে অপরিচিত মানুষ দেখে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

বর্তমানে পাইকের শারীরিক অবস্থাও গুরুতর। তার দুই হাত প্রচণ্ড ফুলে গেছে, এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। খেতেও পারছেন না বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এদিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারকের আদেশে আইভি লাইন, সিরিঞ্জ, ওষুধের প্যাকেজিং ও লেবেলসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে, সময় এবং পরের বিভিন্ন নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, এসব আলামত ভবিষ্যতে টেনেসে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর টেনেসের গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় টেনেসি কারা বিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডাও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

পাইক ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর এবং তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭। শিপও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি; তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement